Logo
×

Follow Us

উদ্যোক্তা

ডিমের খোসা থেকে জৈব সার: বেলালের সাফল্য অন্যদের দিচ্ছে অনুপ্রেরণা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৪০

ডিমের খোসা থেকে জৈব সার: বেলালের সাফল্য অন্যদের দিচ্ছে অনুপ্রেরণা

ডিমের খোসা থেকে জৈব সার, বেলালের সাফল্য অন্যদের দিচ্ছে অনুপ্রেরণা: ছবি সংগৃহীত

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভিটি গ্রামের বেলাল মোল্লা (৪৩) এখন আলোচনায়। একসময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হ্যাচারির বর্জ্য পরিষ্কারক হিসেবে জীবন কাটালেও আজ তিনি পরিচিত হয়েছেন ডিমের খোসা থেকে জৈব সার প্রস্তুতকারক হিসেবে।

শুরুটা ছিল কঠিন

হ্যাচারিতে কাজ করার সময় তিনি লক্ষ্য করেন, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ডিমের খোসা ফেলে দেওয়া হয়। কৌতূহল থেকে জানতে পারেন, এই খোসায় ক্যালসিয়ামসহ এমন উপাদান রয়েছে যা মাটির উর্বরতা বাড়াতে কার্যকর। কিন্তু নতুন উদ্যোগ নেওয়ার মতো পুঁজি তখন ছিল না। অবশেষে ঋণ নিয়ে একটি মেশিন কেনেন এবং শুরু করেন খোসা শুকানো ও গুঁড়া করার কাজ।

প্রথম দিকে গ্রামের মানুষ বিষয়টিকে হাস্যকর মনে করলেও বেলাল থেমে যাননি। নিয়মিত পরিশ্রমের ফলে এখন তার ছোট উদ্যোগ দাঁড়িয়ে গেছে লাভজনক ব্যবসায়।

আয়ের পথ তৈরি

প্রতিদিন তিনি স্থানীয় হ্যাচারি থেকে খোসা সংগ্রহ করেন। খোসা শুকানোর পর মেশিনে গুঁড়া করে প্যাকেটজাত করা হয়। স্থানীয় বাজারে এই গুঁড়া জৈব সার হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। সবজিখেত, নার্সারি, এমনকি মাছের খাদ্য হিসেবেও এর চাহিদা বেড়েছে।
বর্তমানে ৫০ কেজির এক বস্তা সার বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭৫০ টাকায়। খরচ বাদ দিয়ে বেলালের মাসিক আয় দাঁড়াচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায়। শুধু তাই নয়, তার কারখানায় পাঁচজন শ্রমিকের কর্মসংস্থানও হয়েছে।

কৃষকের অভিজ্ঞতা

স্থানীয় কৃষক আবদুল মালেক জানান, “ডিমের খোসার সার সবজিখেতে ব্যবহার করছি। ফলন ভালো হচ্ছে, মাটিরও ক্ষতি হচ্ছে না। রাসায়নিক সারের মতো ঝুঁকিও নেই।

বিশেষজ্ঞদের মত

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “ডিমের খোসায় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও সালফার থাকে। এগুলো ফসলের গুণগত মান উন্নত করে এবং মাটিকে উর্বর রাখে। তবে বাজারজাত করার জন্য কৃষি বিভাগের অনুমোদন নেওয়া জরুরি।

স্বপ্ন সামনে

বেলালের লক্ষ্য শুধু নিজের ব্যবসা নয়, বরং অন্যদের জন্য পথ দেখানো। তিনি বলেন, “আমি চাই, এই সার সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক। তাতে আরও মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।

Logo