ঠাকুরগাঁওয়ের আকাশে চৈত্র মাসে পৌষের মতো কুয়াশা দেখা দিয়েছে
এবারের চৈত্র মাস তার পরিচিত ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি। এই মাসে প্রকৃতি যেন একসঙ্গে তিনটি রূপ দেখাচ্ছে– কুয়াশা, তাপপ্রবাহ এবং অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত। এই তিনের সংঘাত কৃষির জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
কৃষকের দিনপঞ্জিতে চৈত্র মাস এক সন্ধিক্ষণ। রবিশস্যের শেষ ভাগ, খরিপ মৌসুমের সূচনা আর বোরো ধানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এটি। কোথাও ধানের ঢেউ, কোথাও গমের সোনালি আভা, ভুট্টার সারি এবং সবজির সবুজ বিস্তার– এ মাসেই দেখা সম্ভব।
কিন্তু দেশের উত্তরপ্রান্ত যখন ভোরে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল তখন খরতাপে পুড়ছে। আর হঠাৎ কালবৈশাখী এবং টানা বৃষ্টিতে ডুবে যাচ্ছে হাওরের বোরো ফসল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু বদলের কারণেই আবহাওয়ার এই বিরূপ আচরণ। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে গাছগাছালির। বাড়বে ফসলের রোগবালাই। কমবে উৎপাদন।
চৈত্রে কুয়াশার বিস্ময়
উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ে এবার চৈত্রের সকালে যে দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, তা অনেকের কাছেই বিস্ময়ের। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে তেঁতুলিয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। সড়কে চলাচল করা যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হয় এই সময়। মাঠ, ফসলি জমি, এমনকি গাছপালার পাতায় জমছে ক্ষুদ্র জলকণা।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা, দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়া এবং হঠাৎ বৃষ্টির প্রভাব মিলিয়ে এই বাষ্পীয় কুয়াশা তৈরি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। গত শনিবারও এই এলাকায় কুয়াশা দেখা গেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের আকাশেও চৈত্র মাসে পৌষের মতো কুয়াশা দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার হালকা কুয়াশা দেখা গেলেও শনিবার অনেক বেশি কুয়াশা দেখা যায়। এক সপ্তাহ ধরে এসব এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ২৮ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। মাঝেমধ্যে বৃষ্টিও হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার গোফাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সপিজুল ইসলাম বলেন, সকালে উঠে দেখি, চারদিক কুয়াশায় সাদা হয়ে গেছে। বয়স্করা বলেন, চৈত্রে কুয়াশা হলে বৈশাখে বন্যা হয়। এখন কী হবে, আল্লাহ জানেন।
পরিবেশবিদ শেখ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিকতা দেখা দিয়েছে। চৈত্রে তীব্র গরম থাকার কথা; বাস্তবে শীতের আমেজ যাচ্ছে না। এমন ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে, যা আগে এ সময়ে ছিল না।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, এ ধরনের কুয়াশাকে বাষ্পীয় কুয়াশা বলে। বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বেশি থাকলে এবং দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গেলে জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত হয়ে কুয়াশা তৈরি হয়। দখিনা বাতাস, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা, হঠাৎ বৃষ্টি এবং আকাশে দীর্ঘ সময় মেঘ থাকার কারণেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
খরতাপে দগ্ধ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
উত্তরের এই কুয়াশার বিপরীতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিরাজ করছে তীব্র তাপপ্রবাহ। চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। প্রখর রোদে মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। কৃষি শ্রমিকদের কাজের সময় কমে যাচ্ছে, উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জায়গায় সড়কের পিচ নরম হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় চুয়াডাঙ্গায় ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার এ জেলায় তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়। এরপর যশোর; এ জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী এগ্রো-ক্লাইমেট চেঞ্জ এক্সপার্ট ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মিলন বলেন, এ অঞ্চলে বর্তমানে ধানের থোড় আসছে। এ সময় তাপপ্রবাহ ধানের জন্য ক্ষতিকর। ৩৫ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা থাকলে ধান চিটা হয়ে যাবে। তিনি বলেন, তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির বেশি হলে ক্ষেতে পানি ধরে রাখতে হবে। কারণ, ধানের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা হচ্ছে দিনের বেলায় ৩৫ ডিগ্রির নিচে ও রাতে ২৬ ডিগ্রির নিচে থাকলে উৎপাদন ভালো হয়।
অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত
এ দুই বিপরীত চিত্রের মাঝখানে রয়েছে আরেকটি বড় পরিবর্তন–অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত। চলতি চৈত্রে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও বৃষ্টি হয়েছে। মার্চ মাসজুড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের এই অসম বণ্টন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কোথাও অতিবৃষ্টি, আবার দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় তুলনামূলক কম বৃষ্টি– এই বৈপরীত্য কৃষি ব্যবস্থাপনাকে কঠিন করে তুলছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২০২২ সালের চৈত্র মাসে বৃষ্টি হয়েছে ছয় দিন, ২০২১ সালে আট দিন, ২০২০ সালে পাঁচ দিন, ২০১৯ সালে সাত দিন, ২০১৮ সালে চার দিন ও ২০১৭ সালে চার দিন। আর এ বছরের চৈত্র মাসে ২০ দিনের মধ্যে ১২ দিনই বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দেশে মার্চের স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাত ৪৭ মিলিমিটার। কিন্তু এ বছর মার্চে সারাদেশে গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৬২ মিলিমিটার।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানান, এ বছর মার্চে অন্যান্য বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঢাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৬৮ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় ৪৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
একইভাবে সিলেটে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৪০ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১১০ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫৪ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। রংপুরে মার্চে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১২৩ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩২৮ শতাংশ বেশি। ময়মনসিংহে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১১৬ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২১৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে এ বছর মার্চের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই আবহাওয়াবিদ।
তবে মার্চে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে শূন্য দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। ১২ থেকে ১৯ মার্চের মধ্যে কালবৈশাখী ও বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৬১৪ কৃষক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ঝড়ে নষ্ট হয়েছে প্রায় দুই হাজার ১৩১ হেক্টর জমির ফসল, যার বর্তমান বাজারমূল্য ৮৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৬ জেলার আলুচাষিরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিতে আলু নষ্ট হয়েছে ৯১৬ হেক্টর জমির, কলা নষ্ট হয়েছে ২২৯ হেক্টরের, শাকসবজি নষ্ট হয়েছে ৭৮ হেক্টর জমির, ভুট্টা নষ্ট হয়েছে ৬২৮ হেক্টরের, গম নষ্ট ১০২ হেক্টরের, সূর্যমুখী নষ্ট ১০ হেক্টর জমির, পেঁয়াজ বীজ নষ্ট হয়েছে ৭ হেক্টরের এবং মরিচ নষ্ট হয়েছে ৯ হেক্টর জমির।
হাওরাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। কৃষির ক্ষতি নিয়ে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা জানিয়েছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে অর্ধশত হাওরে অন্তত দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় হাকালুকি হাওরের দুটি বিলের প্রায় ১০০ বিঘা জমির আধা-পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে।
আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক ওঠানামা ফসলের রোগবালাইও বাড়িয়ে দিচ্ছে। রাজশাহী অঞ্চলে আমের মুকুলে ‘পাউডারি মিলডিউ’ রোগ দেখা যাচ্ছে, যা মুকুল ঝরিয়ে দিচ্ছে। এতে আমের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সামনের পূর্বাভাসও স্বস্তিদায়ক নয়
গত এক দশকে মার্চ-এপ্রিলে এই ধরনের বৈপরীত্যপূর্ণ আবহাওয়া ক্রমে বাড়ছে। আবহাওয়াবিদরা এটিকে ঋতুচক্রের পরিবর্তনের স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। একই সময়ে কুয়াশা, তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাত– এই তিনের উপস্থিতি আগে ছিল বিরল, এখন তা প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে এপ্রিল মাসের পূর্বাভাসও খুব স্বস্তিদায়ক নয়। মাসজুড়ে একাধিক তাপপ্রবাহ, বজ্রবৃষ্টি ও কালবৈশাখীর আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রতি মাসের শুরুতে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেয়। এপ্রিল মাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। দুই থেকে চারটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের শঙ্কা আছে।
অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের মতে, এবারের এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিক বা তার কাছাকাছি থাকলেও গরমের তীব্র অনুভূতি বজায় থাকবে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (খুলনা বিভাগ), ঢাকা, সিলেট ও বরিশালের কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ বেশি হতে পারে।
এপ্রিল মাসে গড়ে ৯টি বজ্রঝড় হয়। গত বছরও তেমনটা হয়েছিল। এ মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পাঁচ থেকে সাত দিন হালকা থেকে মাঝারি এবং এক থেকে তিন দিন তীব্র কালবৈশাখী বা বজ্রঝড় হতে পারে। এ ছাড়া সাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এ লঘুচাপ থেকে একটি নিম্নচাপ বা সেখান থেকে ঘূর্ণিঝড়ও হতে পারে।
তাপপ্রবাহের ধরন বদলেছে এবং এখন বর্ষাকাল সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে দেখা যাচ্ছে। সেদিকটি তুলে ধরে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এখন তাপমাত্রা যাই থাকুক, গরমের তীব্রতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগামী জুন মাস পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসেও উঠে এসেছে, এ সময় তিন থেকে চারটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে এবং ছয় থেকে আটটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হতে পারে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় প্রয়োজন নতুন পরিকল্পনা, উন্নত প্রযুক্তি ও অভিযোজন কৌশল। সময়মতো সেচ ও পানি নিষ্কাশন, সহনশীল জাতের ফসল নির্বাচন এবং আগাম আবহাওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ– এসবই এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
