Logo
×

Follow Us

বিশেষ প্রতিবেদন

অবৈধ মুনাফা কমায় সক্রিয় পুরোনো সার সিন্ডিকেট

সার আমদানিতে সিন্ডিকেট ভাঙায় সরকারের শত শত কোটি টাকা সাশ্রয়

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ১৭:৫৪

অবৈধ মুনাফা কমায় সক্রিয় পুরোনো সার সিন্ডিকেট

বাংলাদেশে সার আমদানি ও বিতরণ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভেঙে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারদর যাচাই করে দরপত্র মূল্য নির্ধারণ, কেবল সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়া এবং ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার—এই তিনটি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে সরকার বলছে, বহু বছরের গড়ে ওঠা একচেটিয়া আধিপত্যে আঘাত লেগেছে। এর ফলে সরকারের শত শত কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে এবং ভর্তুকির চাপ কমার পাশাপাশি কৃষকরাও তুলনামূলক কম দামে সার পাচ্ছেন।

তবে এই পরিবর্তনে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে দীর্ঘদিনের সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী ও ডিলারদের একটি অংশ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পুরোনো এই চক্র কখনো কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, কখনো অপপ্রচার, আবার কখনো আদালতে গিয়ে নতুন নীতিমালা ঠেকানোর চেষ্টা করছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের বলছে, 'বছরের পর বছর কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও তাদের সহযোগী ডিলার নেটওয়ার্ক পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করত। এখন প্রতিযোগিতা বাড়ায় তাদের একচেটিয়া মুনাফা কমে গেছে। এ কারণেই তারা বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

বড় সাশ্রয়

বাংলাদেশে কৃষিতে প্রায় ১২ ধরনের রাসায়নিক সার ব্যবহৃত হলেও প্রধান চারটি সার হলো ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি ভর্তুকি প্রদান করা হয়।  দেশে বছরে প্রায় ৬৫ লাখ টন সারের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়ার চাহিদা প্রায় ২৬ লাখ টন, ডিএপি সাড়ে ১৬ লাখ টন, এমওপি সাড়ে আট লাখ টন এবং টিএসপি সাড়ে সাত লাখ টন। দেশে উৎপাদন হয় মাত্র ৯ থেকে ১০ লাখ টন ইউরিয়া। বাকি সার আমদানি করতে হয়। গত দুই অর্থবছরে সারে ভর্তুকি দিতে সরকারকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ধাপে ৫ লাখ ৫৫ হাজার টন সার আমদানিতে সরকার সাশ্রয় করেছে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ৫৫ হাজার ডলার। সে সময়ের বিনিময় হার অনুযায়ী টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ প্রায় ২৩৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের দাবি, কোনো একটি সারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দেশের জন্য কেবল একটি নির্ধারিত দরেই আমদানি কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, ভিন্ন ভিন্ন দরে নয়। এতে সরকারের অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগও কমে গেছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দরপত্র মূল্য নির্ধারণ করা হলে সরকারের অর্থ সাশ্রয় হওয়াটা স্বাভাবিক। এ ধরনের ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে চালু রাখতে হবে। তবে শুধু আমদানিতে নয়, গুদামজাত ও পরিবহন পর্যায়েও নজরদারি জোরদার করা জরুরি। অতীতে এই পর্যায়েই অনেক সময় বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে।

কীভাবে গড়ে উঠেছিল সার সিন্ডিকেট

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত দেড় দশকে সার আমদানি ও বিতরণ ব্যবস্থায় কয়েকটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী শক্ত অবস্থান তৈরি করে। অনেক ক্ষেত্রে একই মালিকের অধীনে একাধিক প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্র জমা দেওয়া হতো। পরে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ ভাগাভাগি করা হতো। বাইরে থেকে প্রতিযোগিতা মনে হলেও ভেতরে ভেতরে দর নির্ধারণ করে দেওয়া হতো। এই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় সর্বনিম্ন দরদাতা না হয়েও কিছু প্রতিষ্ঠান কাজ পেত। ফলে বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে সরকারকে সার কিনতে হতো।

মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, অতীতে প্রতিটি টেন্ডারে যদি কেবল সর্বনিম্ন দরেই সার কেনা হতো, তাহলে ২০২০–২১ থেকে ২০২৩–২৪ অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ৭০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা যেত।

সার খাতে অতীতে বড় ধরনের অনিয়মের ঘটনাও রয়েছে। একটি ঘটনায় আমদানিকৃত ৭২ হাজার টন রাসায়নিক সার বন্দর থেকে খালাসের পর গুদামে না পৌঁছানোর অভিযোগ ওঠে। এতে সরকারের প্রায় ৫৮২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।

চুক্তি ভঙ্গের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জরিমানা হিসেবে দ্বিগুণ অর্থ আদায়ের কথা থাকলেও পরে এ নিয়ে দীর্ঘ আইনি জটিলতা তৈরি হয়। ওই ঘটনায় আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠান।

সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকার দরপত্র ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। এখন টেন্ডার জমা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারদর যাচাই করে একটি দাপ্তরিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়। যদি দরপত্রের সর্বনিম্ন মূল্যও সেই বাজারদরের তুলনায় বেশি হয়, তাহলে সেই দামে কাজ দেওয়া হয় না। বরং সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ করতে দরদাতাদের আহ্বান জানানো হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ব্যবস্থা চালুর পর থেকেই অতিরিক্ত মুনাফা করার সুযোগ কমে গেছে।

ডিলার নীতিমালায় বড় পরিবর্তন করে সার আমদানির পাশাপাশি বিতরণ ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের সংস্কার এনেছে সরকার। ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা’ সংশোধন করে বিএডিসি ও বিসিআইসির আলাদা ডিলার ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হয়েছে।

আগে কোনো ডিলার শুধু ইউরিয়া সার বিক্রি করতেন, কেউ আবার শুধু নন-ইউরিয়া সার। ফলে কৃষকদের অনেক সময় আলাদা জায়গা থেকে সার সংগ্রহ করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় সব ধরনের সার একই ডিলারের কাছ থেকে পাওয়া যাবে। এ ছাড়াও নতুন নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে ডিলার থেকে সাব- ডিলার, ও খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে বার বার হাত বদল বন্ধ হবে। ফোকহাট বদলের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে সারের দাম বৃদ্ধির পথ বন্ধ হবে।

এ ছাড়া ডিলারের সংখ্যা বাড়ানো, অনিয়মে জড়িতদের বাদ দেওয়া এবং আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত ডিজিটাল নজরদারি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাঠে সক্রিয় পুরোনো চক্র

নীতিমালা পরিবর্তনের পর থেকেই মাঠে সক্রিয় হয়েছে পুরোনো সিন্ডিকেট। কিছু ব্যবসায়ী সার মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে সরকারকে বিব্রত করার কৌশল নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের এই সিন্ডিকেটের স্বার্থে আঘাত লাগায় তারা এখন প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ ও চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সরকারের আমলে সার ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারদর যাচাই, কেবল সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়া এবং ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ ব্যবস্থায় সংস্কারের মতো পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেটের প্রভাব কমে গেছে। এর ফলে সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে এবং অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ কমে গেছে।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এসব উদ্যোগের পর থেকেই সার সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, কখনো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বেনামি অভিযোগ পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে কয়েকজন কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সার আমদানি সংক্রান্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছে। তবে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। টেন্ডার প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ নিয়ম মেনে সম্পন্ন করা হয়েছে।

তাঁরা জানান, টেন্ডার আহ্বানের আগে দাপ্তরিক মূল্য নির্ধারণ কমিটি আন্তর্জাতিক বাজারদর যাচাই করে মূল্য নির্ধারণ করে। এরপর টেন্ডার উন্মুক্তকরণ কমিটি দরপত্র খোলে এবং টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি প্রস্তাবগুলো বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন দেয়। এই প্রতিবেদন সচিব ও মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির অনুমোদনও নেওয়া হয়। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, 'এখানে কোনো ডেস্ক অফিসারের একক সিদ্ধান্তের সুযোগ নেই। একাধিক কমিটির যাচাই-বাছাই এবং উপদেষ্টা পর্যায়ের অনুমোদনের পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।'

সার আমদানির নতুন সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী উচ্চ আদালতে মামলা করেছিল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। হাইকোর্টে সেই মামলায় পরাজিত হওয়ার পর তারা আপিল বিভাগে প্রায় ১১টি আপিল মামলা করে। তবে সুপ্রিম কোর্ট সবগুলো মামলাতেই কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

কর্মকর্তারা বলছেন, আদালতে এসব মামলার শুনানির সময় মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ যথাসময়ে উপস্থাপন করে। ফলে আদালত সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে রায় দেন। এতে সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে উক্ত সসিন্ডিকেট আদালতেও পরাজিত হয়। এরপর থেকেই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে চাপ তৈরির চেষ্টা করছে।'

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এসব অভিযোগের মূল উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়া। তাঁদের মতে, অতীতেও একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে অনেক কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, 'সার ব্যবস্থাপনায় যারা অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তাদেরকেই লক্ষ্য করে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কখনো পুরো টিমকে, কখনো আবার আলাদা করে কাউকে টার্গেট করা হচ্ছে।'

সিন্ডিকেট চক্র কিছু অভিযোগে বিএডিসির মাধ্যমে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সার আমদানির জি-টু-জি (সরকার-টু-সরকার) চুক্তির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই চুক্তি নতুন কিছু নয়। তাঁরা জানান, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) চীনের ব্যানিয়ান কোম্পানির কাছ থেকে জি-টু-জি পদ্ধতিতে সার আমদানি করছে। প্রতি বছর নিয়মিতভাবে এই চুক্তি নবায়ন করা হয়।

বিএডিসির প্রস্তাবের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি উপদেষ্টা পর্যায়ে অনুমোদিত হয়। এটি বিএডিসি ও মন্ত্রণালয়ের একটি যৌথ সিদ্ধান্ত। এখানে মধ্যম পর্যায়ের কোনো একক কর্মকর্তার আলাদা কোনো ভূমিকা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সারের মূল্য প্রতিযোগিতামূলক রাখতে সরকার জি-টু-জি চুক্তির জন্য নতুন উৎস দেশ খুঁজছে। এ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ জানিয়ে আবেদন করে, যা নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হয়—এটিকে কৃষি মন্ত্রণালয় একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, একাধিক প্রস্তাবের মধ্যে বর্তমানে শুধু মিশরের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই বলেও দাবি করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নে ষওয়ার পর মাঠে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি খবর পেয়েছিলাম। তারপর আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে জেলায় জেলায় মনিটরিং জোরদার এবং দফায় দফায় অভিযান করে ওই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন আর মাঠে সারের কোন সংকট নেই। তিনি বলেন, সার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে যে সংস্কার হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল আই মোহাম্মদ বলেন, সার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যে সংস্কার শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে। কোনো চাপ বা অপপ্রচারে এই প্রক্রিয়া বন্ধ হবে না। দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেটের প্রভাব কমে যাওয়ায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারাই এখন বিভিন্নভাবে পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা করছে। তবে সরকার প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র এবং স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সাশ্রয়ী দামে সার পৌঁছে দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

Logo