খুলনা অঞ্চলে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দেখছেন কৃষক
লোনা পতিত জমিতে সূর্যমুখীর হাসি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ১৭:২৯
'এক বছর আগেও আমাগের এলাকায় আমন ধান কাটার পর জমিতে আর কিছুই হতো না। শুষ্ক মৌসুমে মাটিতে লবণ ওঠে। তাই ভাবতাম চাষ করলে শুধু খরচই বাড়বে।'
কথাগুলো বলছিলেন নড়াইল সদর উপজেলার তুলারাম ইউনিয়নের চাঁচড়া গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম। গত বুধবার নিজের জমির পাশের সড়কে দাঁড়িয়ে তিনি আঙুল তুলে দেখাচ্ছিলেন বিশাল মাঠের দিকে। দূর থেকে মনে হয় যেন হলুদ রঙের গালিচা বিছিয়ে আছে। কাছে গেলে বোঝা যায়—হাজার হাজার সূর্যমুখী ফুল বাতাসে দুলছে।
কামরুল ইসলাম হেসে বললেন, 'আগে কেউ বিশ্বাসই করত না এই জমিতে অন্য ফসল হবে। এখন দেখেন, মাঠজুড়ে সূর্যমুখী ফুল ফুটে আছে। দুই বছর ধরে মানুষের ধারণাই বদলাই গেছে।'
খুলনা অঞ্চলের নড়াইল, খুলনা, বাগেরহাট ও যশোরের বিস্তীর্ণ লবণাক্ত জমিতে নতুন দৃশ্য। আমন ধান কাটার পর যে জমি কয়েক মাস পতিত পড়ে থাকতো, সেখানে এখন ফুটছে বারি সূর্যমুখি-৩ জাতের হলুদ ফুল। কৃষকেরা বলছেন, এই ফসল শুধু জমি নয়—গ্রামীণ অর্থনীতিকেও বদলে দিতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এসব লবণাক্ত জমি নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পতিত পড়ে থাকে। এক একর জমিতে সূর্যমুখি চাষে কৃষকদের খরচ হয় সাড়ে তিন হাজার টাকা, তার বিপরীতে প্রায় ২৫ হাজার টাকার আর্থিক লাভ হয়। কোথাও কোথাও সূর্যমুখির একটি হেটের ওজন এক কেজির ওপরে। এ বছর ১৬শ হেক্টর জমি সূর্যমুখি চাষের আওতায় এসেছে।
পতিত জমিতে নতুন সম্ভাবনা
খুলনা অঞ্চলে আমন ধান কাটার পর নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত বিশাল পরিমাণ জমি পতিত পড়ে থাকে। লবণাক্ততা ও সেচের পানির সংকটের কারণে কৃষকেরা সেখানে অন্য ফসল করতে সাহস পেতেন না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, শুধু খুলনা অঞ্চলেই খরিপ-১ মৌসুমে প্রায় আড়াই লাখ হেক্টর জমি পতিত থাকে। এই জমিগুলোর বড় অংশেই লবণাক্ততার মাত্রা বেশি।
কিন্তু গত দুই বছর ধরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের 'প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশীপ এন্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)' প্রকল্পের সহায়তায় কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বীজ, সার, কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ফলে যেসব জমি বছরের পর বছর পতিত ছিল, সেগুলোতে শুরু হয়েছে সূর্যমুখীর আবাদ।
মাঠে মাঠে হলুদ গালিচা
নড়াইলের চাঁচড়া গ্রামের কামরুল ইসলাম এবার দুই একর জমিতে বারি সূর্যমুখী-৩ জাতের ফসল করেছেন। তিনি জানান, আগে কয়েকবার হাইব্রিড সূর্যমুখী চাষ করেছিলেন। কিন্তু ফলন খুব ভালো হয়নি। এবার সরকারি প্রণোদনায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত বারি সূর্যমুখী-৩ জাতের বীজ পেয়েছি। এই জাতের প্রায় প্রতিটা ফুলেই এক কেজির কাছাকাছি বীজ হবে। এমন ফলন আগে কখনো পাইনি।
কামরুল ইসলামের ক্ষেতে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গাছের মাথায় বড় বড় হলুদ ফুল। ফুলের মাঝখানে ঘন বীজের স্তর। চারদিকে মৌমাছির গুঞ্জন। সূর্যের দিকে মুখ ঘুরিয়ে থাকা ফুলগুলো যেন পুরো মাঠকে আলোকিত করে তুলেছে।
খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর ইউনিয়নের আলকা গ্রামেও একই চিত্র। সেখানে দুই একর জমিতে ছয়জন কৃষক মিলে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তাদের মধ্যে কৃষক রেজাউল করিম বলেন, এ বছরই প্রথম করেছি। ফলন যদি ভালো হয়, ধানের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হবে। আগে জমি ফাঁকা পড়ে থাকত। এখন স্বল্প খরচে ফসল হচ্ছে। সূর্যমুখী চাষের আরেকটি বড় সুবিধা হলো এতে সেচের পানি খুব বেশি লাগে না।
গ্রামের আরেক কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, 'আমার বয়স ৩২ বছর। এই এলাকায় এমন ফসল আগে দেখিনি। তাই আমিও এক বিঘা জমিতে চাষ করেছি।'
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার আটজুড়ী ইউনিয়নেও সূর্যমুখী চাষে ভালো ফলন দেখা যাচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমলা বিশ্বাস বলেন, আটজুড়ী গ্রামের পেয়ারী বেগম, বাচ্চু মিয়া, নিজাম মোল্লা ও আ. হালিম মোল্লাসহ ৪ জন কৃষক দুই একর জমিতে বারি সূর্যমুখি-৩ জাতের ফসল চাষ করেছেন। এখানে একেকটি ফুলের পরিধি ১৫ ইঞ্চি, যা এক কেজির চেয়ে বেশি বীজ হয়েছে। সাধারণত এত বড় ফুল হয় না। তিনি বলেন, চাষের প্রথম পর্যায়ে পোকার কিছু আক্রমণের কারণে আমিসহও চাষিরাও হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। পরবর্তীতে যত্ন বাড়ানোর কারণে গাছের স্বাস্থ্যও ভালো হয়েছে। আর ফুলের আকারও অনেক বড় হয়েছে। এতে আমরা উভয়েই খুশি। ফুল ফোটার পর অনেক পর্যটকও আসে।
খুলনার ফুলতলা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, এসব অঞ্চলের জমি যেমন লবণাক্ত তেমনি পানির অভাব। তাই জমিগুলো নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পতিত থাকে। আমরা এসব কৃষকদের সূর্যমুখি চাষে উদ্বুদ্ধ করেছি। তারা এ বছরই প্রথম চাষ করছেন। আগামীতে কৃষকের সংখ্যা বাড়ছে। সাধারণ কৃষকরা যেহেতু প্রথমে আবাদ করতে চায় চায় না সেজন্য ক্যান্টমেন্ট, পুলিশ লাইন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে আমরা আগে আবাদ করেছি। এতে মানুষের মধ্যে একটা আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষক নির্বাচনে কোন দিককে প্রধান্য দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে আরিফ হোসেন বলেন, যেসব কৃষক আগ্রহী তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রথমে এরাও আগ্রহী ছিল না। বেশিরভাগ কৃষকই ধান চাষ করতে চায়। অপরিচিত ফসলে প্রথমে কৃষকরা আগ্রহী হয় না।
কম খরচে বেশি লাভ
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কৃষি কর্মকর্তাদের হিসাবে সূর্যমুখী চাষে খরচ খুব কম। বারি-৩ জাতের সূর্যমুখী চাষের প্রধান উপযুক্ত সময় হচ্ছে নভেম্বর মাস। তবে ডিসেম্বরেও রোপণ করা যায়। নভেম্বরে রোপণ করলে ফুলে আকার বড় ও দানা পরিমাণ বেশি হয়। সেচও কম দিতে হয়। তখন একটি ফুলে এক কেজি বীজ বা দানা পাওয়া যাবে। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ফসল কাটা যায়। ৩৩ শতাংশের এক বিঘায় ৮ মণ বীজ পাওয়া পায়। এককেজি দানায় কমপক্ষে ৪০০ গ্রাম তেল পাওয়া যায়। প্রতি কেজির দাম একশ হলেও এক মণ বীজের মূল্য দাঁড়াচ্ছে ৪ হাজার টাকা। এক বিঘায় সাড়ে ৭ মণ (৩০০ কেজি) বীজ ধরা হলে সেখানে ৪০০ গ্রাম করে তেল হলে ১৩০ লিটার তেল হয়। তাতে সাড়ে ৩২ হাজার টাকার তেল পাওয়া যাবে। তারপর খৈল ও গাছটি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এসবের আর্থিক মূল্যও অনেক। এক বিঘায় মাত্র এক কেজি বীজের দরকার হয়। এক কাতার থেকে অপর কাতারের দূরত্ব হচ্ছে ১০ ইঞ্চি ও এক বীজ থেকে অপর বীজের দূরত্ব হবে ৫ ইঞ্চি। এক একরে জরিম পরিমাণ ৬ বিঘা। চাষিদেরকে দুই একরের জন্য বীজ, সার, কীটনাশক, ড্রামসহ অন্যান্য উপকরণে ৫০ হাজার টাকা বাজেট দেওয়া হয়। সূর্যমুখির জীবনকাল ৮৫-১০৫ দিন। এসব কেটে পাট, আউস ধান, তিল, মুগডালসহ অন্যান্য ফসল করা যাবে।
পার্টনার প্রকল্পের খুলনা অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, খুলনা অঞ্চলে অনেক এলাকায় লোনা পানির আগ্রসানে আমন ধান ছাড়া কোনো ফসল হয় না। উপকূলের এসব লবণাক্ত জমিতে সূর্যমুখীর উৎপাদন বাড়াতে পার্টনার প্রকল্প থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে যেমন অনাবাদি জমির পরিমাণ কমবে, অন্যদিকে দেশে ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। এ ফসল চাষে খরচ এবং পরিশ্রম দুটোই কম হওয়ায় লাভের পরিমাণ বেশি। এসব দিক বিবেচনা করে পার্টনার প্রকল্প থেকে স্থানীয় কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশে ভোজ্য তেলের মাত্র ১৫ শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। বাকি ৮৫ শতাংশ আমদানি করতে হয়। দেশে বছরে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার তেল আমদানি হয়। যদি পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষ বাড়ানো যায়, তাহলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
মোসাদ্দেক বলেন, আমন পরবর্তী সময়ে পতিত ও লবণাক্ত জমিগুলোতে সূর্যমুখির আবাদ করতে পারলে আমাদের তেল আমদানির হার অনেক কমে যাবে। দেশে তেলের চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ সরিষা, সূর্যমুখি, তিলসহ অন্যান্য উপায়ে সংগৃহীত হয়। বাকী ৮৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। দেশের পতিত ও লবণাক্ত জমিগুলো সূর্যমুখির আবাদ বাড়াতে পারলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। তা না হলে আমরা তেল আমদানিকারকদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়বো।
কৃষকরা কেন সূর্যমুখির আবাদ করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কৃষকের ঘরে চাল, আলু ও সামান্য তেল থাকে তা হলে নিজেকে নিরাপত মনে করে। আর এ অঞ্চলে লবণাক্তার কারণে সরিষার করাটা কঠিন। আর আমন পরবর্তী সময়ে ১৮-২০ শতাংশ জমি পতিত থাকে। মিষ্টি সেচ পানির অভাবে কোন ফসল ফলানো যায় না। আর সূর্যমুখি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি লবণসহিঞ্চু ফসল। এর বীজ সংরক্ষণ করা যায়। তা ছাড়া হাইব্রিড এক কেজি বীজের দাম পড়ে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। সেখানে বারি-৩ জাতের সরিষার বীজের কেজি দেড় থেকে দুইশ টাকা মাত্র। আর কৃষকরা সহজেই এটি সংরক্ষণ করতে পারে যা হাইব্রিডে সম্ভব নয়।
মোসাদ্দেক বলেন, দেশে বছরে ১৬ হাজার কোটি টাকার তেল আমদানি হয়। সেখানে সূর্যমুখি চাষ করতে পারলে অনেক টাকা সাশ্রয় হবে। কেননা সূর্যমুখি ক্ষেত ছাড়াও পুকুরের পাড়, ক্ষেতের আইল, বাড়ির আঙ্গিনাসহ উঁচু প্রায় সব জায়গায় চাষ করা যায়। আমাদের প্রত্যাশ ৫০ শতাংশ তেলের চাহিদা পূরণ করা যাবে পতিত জমি থেকেই। খুলনা অঞ্চলে ১৩ লাখ ১৩ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে। সেখানে ১৮-২০ শতাংশ জমি আমন পরবর্তী সময়ে পতিত থাকে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সূর্যমুখি চাষে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। কেননা ধানের শিকড় ৬-৮ ইঞ্চি গভীরে যায় আর সূর্যমুখির শিকড় ১৫ ইঞ্চি গভিরে প্রবেশ করে। এতে করে সেচ না পেলেও বেঁচে থাকে। পাতা পড়ে সার হয়। এতে করে পরবর্তী ফসলে সার কম লাগে।
দ্বিগুণ লবণ সহ্য করতে পারে সূর্যমুখী
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নড়াইল, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট—এই চার জেলা নিয়ে গঠিত খুলনা অঞ্চলের প্রায় ৫৭ শতাংশ জমি লবণাক্ত। সাধারণত আমন ধান কাটার পর খরিপ–১ মৌসুমে প্রায় আড়াই লাখ হেক্টর জমি পতিত পড়ে থাকে। সাধারণত ৮ ডিএস পার মিটার লবণাক্ততা থাকলে জমিকে লবণাক্ত বলা হয়। কিন্তু সূর্যমুখী ১৫ ডিএস পার মিটার পর্যন্ত লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। তাই এই অঞ্চলের জন্য এটি সম্ভাবনাময় ফসল।
তিনি জানান, সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকার এক বিঘা জমির জন্য এক কেজি বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি, টিএসপি ও পটাশসহ অন্যান্য উপকরণ দেয়। এতে সরকারের খরচ হয় প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। কিন্তু ওই জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে ন্যূনতম প্রায় ২৬ হাজার টাকার ফসল পাওয়া সম্ভব।
মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের হাইব্রিড ও বারি সূর্যমুখী–৩—এই দুই জাতের বীজ দেওয়া হয়েছে। হাইব্রিড বীজ কৃষক সংরক্ষণ করতে না পারলেও বারি সূর্যমুখী–৩ এর বীজ সংরক্ষণ করা যায়। এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৩৫০ জন কৃষককে এক বিঘা করে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় ৪০টি ব্লকে দুই একর করে জমিতে বীজ, সার ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হচ্ছে। এ ছাড়া খুলনা অঞ্চলের কৃষি অভিযোজন প্রকল্পের আওতায় ৩০টি উপজেলাকে ভাগ করে আটটি তেল নিষ্কাশন মেশিন দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিটি উপজেলায় মেশিন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মো. রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, আমন কাটার পর পতিত থাকা আড়াই লাখ হেক্টর জমি ধীরে ধীরে আবাদে আনা গেলে শুধু সূর্যমুখী নয়, মুগডাল, ধৈঞ্চা ও সবুজ সারজাতীয় ফসলেরও চাষ বাড়ানো সম্ভব হবে। একজন কৃষক যদি প্রায় ১০০ কেজি বা আড়াই মণ সূর্যমুখীর বীজ পান, তাহলে তা থেকে উৎপাদিত তেলেই একটি পরিবারের সারা বছরের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
পার্টনার প্রকল্পের কর্মসূচি সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খুলনা অঞ্চল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি। লবণাক্ততা বাড়ায় অনেক জমি পতিত থাকে। আমরা কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উৎসাহ দিয়েছি। তারা ইতিমধ্যে ভালো ফল পাচ্ছেন। আগামীতে আরও অনেক কৃষক এতে যুক্ত হবেন। তিনি বলেন, সূর্যমুখী তেল স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। কিন্তু আমদানি নির্ভরতার কারণে এর দাম বেশি। দেশে উৎপাদন বাড়লে মানুষের জন্য এটি সহজলভ্য হবে।
