Logo
×

Follow Us

বিশেষ প্রতিবেদন

শেরপুরে পাইপ বসাতে গিয়ে বের হলো গ্যাস, সেই গ্যাসেই চলছে গ্রামের রান্না

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ২২:৩১

শেরপুরে পাইপ বসাতে গিয়ে বের হলো গ্যাস, সেই গ্যাসেই চলছে গ্রামের রান্না

ছবি সংগৃহীত

শেরপুর, নালিতাবাড়ী ১৪ অক্টোবর: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের গাছগড়া মধ্যপাড়া গ্রামে নলকূপ বসানোর সময় পাইপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস বেরিয়ে আসায় এলাকায় আনন্দের সঙ্গে উদ্বেগও ছড়িয়েছে। স্থানীয়রা কয়দিন ধরে ওই গ্যাস ব্যবহার করে রান্না করছেন। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৪ অক্টোবর শ্রমিক নূর মোহাম্মদের বাড়িতে টিউবওয়েল বসানোর কাজে নিয়োজিত কয়েকজন বোরিং শুরু করলে প্রথমে ৫৫ ফুট খননের পর ১.৫ ইঞ্চি পাইপ দিয়ে গ্যাস অনবরত বের হতে থাকে। পরে দুইটি নতুন স্থানে প্রায় ৪০ ফুট করে খনন করেও একই ধরনের গ্যাসের সন্ধান পান শ্রমিকরা। এক পর্যায়ে মিস্ত্রিরা দুটি বোরিং মাটির নিচে চাপা দিয়ে রাখলেও একটি বোরিং থেকে গ্যাসের স্রোত বন্ধ হয়নি এবং লোকজন সেই গ্যাসে রান্না করছেন।

নূর মোহাম্মদ জানান, বোরিংয়ের গর্ত থেকে বুদ্বুদ বুদ্বুদ শব্দ করে মিশ্রিত বায়ু ও পানি বের হচ্ছে এবং আগুন ধরিয়ে রান্নাও করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, মাটির নিচে গ্যাসের সঠিক পরিমাণ জানা নেই, তাই অবকাঠামোগত ঝুঁকি অনির্দিষ্ট; তিনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

স্থানীয় যুবক শরিফুল ইসলামের বক্তব্য গ্যাসকে এক প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে দেখা উচিত এবং এটি রাষ্ট্রের সম্পদ; পাশ্ববর্তী জামালপুরে সম্প্রতি গ্যাসের খোঁজ মিলেছে এমন খবর আছে, তাই এখানেও সম্ভাবনা থাকতে পারে এবং সরকারকে নজর দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।

রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হযরত আলী জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা বিষয়টির সত্যতা যাচাই করেছেন এবং দ্রুত উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেছেন। তিনি বলেন, এখনই ঝুঁকি আছে এবং দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ দরকার।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, মাটির নিচে গ্যাসের পরিমাণ নির্ধারণ করা পেট্রোবাংলার (বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন)- দায়িত্ব। পাশাপাশি উন্মুক্ত স্থানে খননের গর্ত থেকে বের হওয়া গ্যাসে সরাসরি আগুন জ্বালানো ঝুঁকিপূর্ণ অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের সম্ভাবনা আছে।

নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার ববি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দিকেই জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে নিরাপত্তা ও তদন্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবজানিয়েছেন, যাতে গ্যাসের উৎস ও পরিমাণ নির্ধারণ করে ঝুঁকি এড়ানো যায়।

Logo