Logo
×

Follow Us

জাতীয়

চট্টগ্রামের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ দফা উদ্যোগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১৫:৫২

চট্টগ্রামের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ দফা উদ্যোগ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ফাইল ছবি

বাসস: টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সৃষ্ট দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

শুক্রবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি উদ্যোগ শিরোনামে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি জানান, সংকটময় সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ সহায়তা, উদ্ধার পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছেন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরও মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১০টি প্রধান উদ্যোগ হলো-

১. প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিকভাবে দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং মনিটরিং করাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়মিতভাবে ডিসি, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সাথে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

২. চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

৩. জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই ৫টি জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অনুদান এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল দুর্গতদের কাছে দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

৪. সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

৫. জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম গতিশীল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

৬. প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন করছেন এবং সশরীরে দুর্গত এলাকায় অবস্থান নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

৭. দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সহযোগী সংগঠনগুলো মাঠে নেমেছে। একই সাথে সরকারের প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং কোস্টগার্ড মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একযোগে কাজ করছে।

৮. ভারী বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকার চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

৯. এই দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করছেন।

১০. টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে সেটি ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ স্থানে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করবে সরকার।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে মাহদী আমিন আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, মানবিক উদ্যোগ এবং সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে দ্রুত এই দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গভীর দায়বদ্ধতা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন এবং জনগণের কল্যাণে সরকার সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

Logo