Logo
×

Follow Us

প্রাণিসম্পদ

পোলট্রি খামারিদের মাসে ৫০০ কোটি টাকা লোকসান

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ২২:৪৩

পোলট্রি খামারিদের মাসে ৫০০ কোটি টাকা লোকসান

প্রতি মাসে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা লোকসান গুনছেন প্রান্তিক পোলট্রি খামারিরা। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে অধিকাংশ প্রান্তিক খামারি ছিটকে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)। সংগঠনটির দাবি, এতে দেশের ডিম উৎপাদন ও বাজারের পুরোটাই বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়বে ভোক্তার ওপরও।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর আহমেদ চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিপিআইএর সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী। এর আগে সারাদেশের পোলট্রি খামারিদের ১১ দফা দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন খামারিরা। এ সময় তারা সিদ্ধ ডিম বিতরণ করে প্রতিবাদ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন খামারিরা। প্রতিদিন লোকসান গুনতে গুনতে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে ডিম উৎপাদন ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় পোলট্রি খাতে একটি যৌক্তিক দর নির্ধারণ করতে হবে, যাতে খামারিরা অন্তত ন্যায্য মুনাফা পান এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারেন।

বিপিআইএর হিসাবে, বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ১০ টাকা ২০ পয়সা থেকে সাড়ে ১০ টাকা। অথচ প্রান্তিক খামারিরা ডিম বিক্রি করছেন ছয় থেকে সাড়ে ছয় টাকায়। অর্থাৎ প্রতি ডিমে গড়ে প্রায় চার টাকা লোকসান হচ্ছে। দেশে প্রতিদিন প্রায় ছয় কোটি ডিম উৎপাদিত হয়। সে হিসাবে প্রতিদিন লোকসানের পরিমাণ প্রায় ২৪ কোটি টাকা। মাসজুড়ে এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকায় দাঁড়ায় বলে সংগঠনটির দাবি।

সারাদেশের পোলট্রি খামারিদের একটি জাতীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ চালুর দাবি জানিয়ে মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বলেন, এতে প্রকৃত খামারি শনাক্ত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন, বাজার পরিস্থিতি ও খামারিদের ঝরে পড়ার তথ্য বাস্তব সময়েই পাওয়া যাবে। সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি ও স্বল্প সুদে ঋণও সরাসরি প্রকৃত খামারির কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, মাছ, মুরগির বাচ্চা, খাদ্য, ওষুধ, টিকা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহনসহ প্রায় সব ধরনের উৎপাদন উপকরণের দাম বেড়েছে। তবে সেই অনুপাতে খামার পর্যায়ে ডিমের দাম সমন্বয় হয়নি। ফলে গত পাঁচ বছরে ৬৪ হাজার খামারি এ খাত থেকে ঝরে পড়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিপিআইএর মহাসচিব এম সাফির রহমান বলেন, খামারির মোট ব্যয়ের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই খাদ্যের পেছনে খরচ হয়। খাদ্যের কাঁচামাল আমদানিতে বর্তমানে ৪ শতাংশ অগ্রিম আয়কর দিতে হয়। এই কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে কৃষি খাতের কাঁচামালের ওপর এমন কর নেই।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ের অভাবে পোলট্রি খাত কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছে না। তাই সরকার, বেসরকারি খাত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বয়ে একটি জাতীয় পোলট্রি বোর্ড গঠন করা প্রয়োজন।

সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন মজুমদার বলেন, খামারিরা যখন লোকসান দিয়ে সাড়ে চার টাকার মতো দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হন, তখনও ভোক্তাকে সাড়ে ১০ টাকায় ডিম কিনতে হয়। ডিম সংরক্ষণ করা যায় না বলে খামারিদের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিবন্ধিত খামারিদের জন্য ফার্মার আইডি চালু, প্রান্তিক খামারিদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা কর্মসূচি ও পোলট্রি বীমা, উৎপাদন ও বিপণনের জন্য আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও খামারি সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে বাংলাদেশ জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন বোর্ড গঠনের দাবিও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিপিআইএর উপদেষ্টা এনসি বণিক, সহসভাপতি মেজবাউর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, প্রচার সম্পাদক সফিকুর রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক গাজী নূর হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুন্না মুন্সীসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Logo