গোলাপি মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্পের খাবারের তালিকাও রাজকীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ২০:৩৫
নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় ঢুকতেই দূর থেকে ভেসে আসে মানুষের কোলাহল। কেউ মোবাইল উঁচিয়ে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, কেউ আবার বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছেন বিশালদেহী এক গোলাপি মহিষের দিকে। কাছে যেতেই বোঝা যায়, এ যেন সাধারণ কোনো কোরবানির পশু নয়। ঈদের বাজারে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা এই মহিষের নাম—‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
নারায়ণগঞ্জের রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে থাকা অ্যালবিনো মহিষটি এখন এলাকাজুড়ে কৌতূহলের নাম। খামার কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটির মাথার সোনালি আভাযুক্ত লোম অনেকটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলের স্টাইলের মতো। আর সেখান থেকেই এমন নামকরণ। তবে শুধু রঙ বা চেহারা নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের খাবারের তালিকাও বেশ রাজকীয়।
খামারের পরিচর্যাকারীরা জানান, মহিষটিকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা মেনে খাবার দেওয়া হয়। সকালে থাকে ভুট্টা, গমের ভুসি, সয়াবিন ও তিলের খৈলের মিশ্রণ। বিকেলে আবার দেওয়া হয় কাঁচা ঘাস ও পুষ্টিকর দানাদার খাবার। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হয় তার জন্য।
খামারের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা বলেন, এই মহিষটাকে আমরা আলাদা যত্নে বড় করেছি। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার কারণে তার গঠনও ভালো হয়েছে। মানুষ শুধু দেখতে নয়, তার খাবার-যত্ন নিয়েও জানতে আসে।
খামারে গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের অনেকেই মহিষটির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। শিশুদের মধ্যে আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কেউ কেউ আবার মহিষটির গোলাপি রঙ দেখে প্রথমে অবাক হয়ে যান।
পরিচর্যাকারীরা জানান, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ স্বভাবেও বেশ শান্ত। খামারের কর্মীদের সঙ্গে সহজেই মিশে যায়। অপরিচিত মানুষ কাছে এলেও খুব একটা অস্থির হয় না।
পশু বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালবিনো প্রাণী সাধারণত বিরল হয়ে থাকে। জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে এদের শরীরে স্বাভাবিক রঞ্জক কম থাকায় গায়ের রঙ ফ্যাকাশে বা গোলাপি আভাযুক্ত দেখা যায়।
খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ঢাকার এক ক্রেতার কাছে মহিষটি বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি ‘লাইভ ওয়েট’ ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া এই মহিষ ঈদের আগেই নতুন ঠিকানায় চলে যাবে।
তবে বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়ার পরও মানুষের আগ্রহ কমেনি। প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে খামারে। স্থানীয়দের ভাষায়, 'এ যেন নারায়ণগঞ্জের সেলিব্রিটি মহিষ!'
