Logo
×

Follow Us

প্রাণিসম্পদ

মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের কবলে পোলট্রি খাত

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৪৫

মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের কবলে পোলট্রি খাত

রোববার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) আয়োজিত আলোচনা সভা

রাজধানীতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় পোল্ট্রি খাতের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, বাজারে দামের অস্থিরতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং প্রান্তিক খামারিদের লোকসানের কারণে খাতটি চাপে পড়েছে বলে জানান তারা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং এর প্রভাব পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা করেন খামারিরা।

রোববার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ক্ষুদ্র খামারিদের টিকিয়ে রাখা জরুরি। তারা না থাকলে বড় খামারিরাও টিকে থাকতে পারবেন না। তিনি বলেন, বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে প্রায় ৯ টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু খামারিরা সেটি ৭ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে প্রতিটি ডিমে প্রায় ২ টাকা করে লোকসান হচ্ছে। খামারিরা কতদিন এভাবে লোকসানে বিক্রি করবেন?। উৎপাদন খরচ কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে খামারি, ফিড উৎপাদক, বাচ্চা উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সমন্বয় রেখে ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি, যাতে ভোক্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো খাতটিকে সহায়তা দেওয়া এবং এ ক্ষেত্রে শতভাগ সহযোগিতা করা হবে। তিনি বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি খাতসংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করে একটি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করতে। সেটির ভিত্তিতে সরকার অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ খামারি প্রান্তিক পর্যায়ের। তাদের বড় একটি অংশ দাদনের ওপর নির্ভরশীল, যার ফলে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। এতে প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মাঝারি পর্যায়ের একটি গোষ্ঠী লাভবান হচ্ছে।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) আহ্বায়ক মসিউর রহমান বলেন, আগের সরকারের আমলে ডিম আমদানির সিদ্ধান্ত খামারিদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। ভারতে বর্তমানে ডিমের দাম বাংলাদেশের তুলনায় বেশি। তাই আমদানি না করে দেশীয় উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে নীতি সহায়তা দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, দেশে পোল্ট্রি খাতে প্রায় ১ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে জড়িত। এর মধ্যে সরাসরি কর্মসংস্থান রয়েছে ৮০ থেকে ৮৫ লাখ মানুষের। তিনি জানান, ২০০৫ সালে প্রাণিজ পুষ্টিতে পোল্ট্রির অবদান ছিল ১০ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ডিম ও মুরগির মাংস দেশের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে খামারি ও খুচরা বিক্রেতার মধ্যে দামের পার্থক্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমানে এই পার্থক্য প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত। মাত্র ১৮ জনের একটি গোষ্ঠী এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এই সিন্ডিকেট ভাঙার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ডিম উৎপাদনে মোট খরচের প্রায় ৫৬ শতাংশই ফিডে ব্যয় হয়। ফলে ফিডের দাম বাড়লে সরাসরি উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।

ফিড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে দেশে ফিডের দাম বেড়েছে। সয়াবিন মিলের দাম ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬২ টাকায় উঠেছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ৬৫ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। খামারিরা শুধু ২ টাকা নয়, অনেক ক্ষেত্রে ৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান দিচ্ছেন প্রতি ডিমে। অনেক খামারি উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ খামার বন্ধ করতেও বাধ্য হচ্ছেন।

Logo