মিনি কোল্ড স্টোরেজে সবজি রেখে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করতে পারবেন কৃষকেরা: জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৬:০১
কৃষকেরা উৎপাদিত সবজি কিছুদিন সংরক্ষণ করে বাজার পরিস্থিতি বুঝে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। তিনি বলেছেন, মিনি কোল্ড স্টোরেজ চালুর ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচের ন্যায্য প্রতিফলন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
শুক্রবার জয়পুরহাটের কালাই হাট ও বাজার এলাকায় একটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সংরক্ষণাগারটি নির্মাণ করা হয়েছে।
আব্দুল বারী বলেন, কৃষকের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সঠিক সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কৃষক যেন উৎপাদনের পরপরই কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য না হন, সে জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সংরক্ষণ সুবিধা বাড়াতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকেরা অনেক পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করেন। কিন্তু অনেক সময় সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বাজারে দাম কমে গেলে তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়েন। মিনি কোল্ড স্টোরেজ চালুর ফলে কৃষকেরা উৎপাদিত সবজি কিছু সময় সংরক্ষণ করে বাজার পরিস্থিতি বুঝে বিক্রি করতে পারবেন। এতে উৎপাদন খরচের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, কৃষিকে শুধু উৎপাদননির্ভর রাখলে হবে না। উৎপাদন থেকে সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ—প্রতিটি ধাপে আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কৃষিপণ্যের অপচয় কমানো গেলে কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য বাজার স্থিতিশীল রাখাও সহজ হবে।
কৃষককে শক্তিশালী করতে তাঁর উৎপাদিত পণ্যের বাজার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন আব্দুল বারী। তিনি বলেন, কৃষকের ঘাম ও শ্রমের যথাযথ মূল্য দিতে হবে। সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা ও উন্নয়ন কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
কালাইয়ের মতো কৃষিপ্রধান এলাকায় এ ধরনের সংরক্ষণ সুবিধা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় চাহিদা ও কৃষকের প্রয়োজন বিবেচনা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। মিনি কোল্ড স্টোরেজটি যথাযথভাবে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এটি কৃষকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কালাইয়ে বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন হলেও সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের অনেক সময় বাজারে দাম কম থাকলেও দ্রুত পণ্য বিক্রি করতে হয়। বিশেষ করে মৌসুমে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ সবজি বাজারে উঠলে দাম কমে যায়। তখন উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে কৃষকেরা লোকসানের মুখে পড়েন। বিক্রি না হওয়া সবজি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ে।
নতুন মিনি কোল্ড স্টোরেজে সবজি সংরক্ষণের সুযোগ থাকায় বাজারে দাম কম থাকলে কৃষকেরা কিছুদিন অপেক্ষা করতে পারবেন। পরে বাজারদর ভালো হলে সংরক্ষিত সবজি বিক্রি করে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে সবজির অপচয় কমার পাশাপাশি কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মো. আল মামুন মিয়া, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজু আলম সরকার, কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
