Logo
×

Follow Us

কৃষি

শেয়ারের মূল্য বেড়ে ২ লাখ ৯৫ হাজার থেকে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা

এগ্রো ট্যুরিজমে নতুন দৃষ্টান্ত, এক হাজার ফাউন্ডারের হাতে জমির দলিল

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ২১:১৭

এগ্রো ট্যুরিজমে নতুন দৃষ্টান্ত, এক হাজার ফাউন্ডারের হাতে জমির দলিল

দেশের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্প ‘সুখের খামার এগ্রো ভিলেজ’-এর এক হাজার ফাউন্ডারের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে জমির দলিল তুলে দেওয়া হয়েছে। বগুড়ার কাহালু উপজেলার বাগইল গ্রামে ৩০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই প্রকল্পটি সমন্বিত কৃষি, এগ্রো ট্যুরিজম ও গ্রামীণ উন্নয়নের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে ইতোমধ্যে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। জমির দলিল হস্তান্তরের মাধ্যমে এক হাজার ফাউন্ডার প্রকল্পটির আইনি মালিকানার স্বীকৃতি লাভ করেন, যা দেশের এগ্রো ট্যুরিজম খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। 

শনিবার বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডির ম্যারিয়ট কনভেনশন হলে ‘ফাউন্ডারস নাইট ২০২৬’-এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সুখের খামার এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম ফাউন্ডারদের হাতে জমির দলিল, শেয়ার সনদ, চুক্তিপত্র এবং সুখের খামার ফাউন্ডেশনের লাইফটাইম মেম্বারশিপ সনদ তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা, অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ফাউন্ডাররা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষিত তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। বিশ্বজুড়ে ক্রিয়েটিভ ইকোনমির প্রসারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশেও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। তিনি বলেন, সুখের খামারের মতো কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগ নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সুখের খামার এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব বলেন, ফাউন্ডাররা আমাদের কাছে শুধু বিনিয়োগকারী নন, তারা এই প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিষ্ঠাতা। তাদের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম বলেন, আমরা শুধু একটি খামার বা রিসোর্ট গড়ছি না, বরং কৃষি, পর্যটন ও গ্রামীণ উন্নয়নের সমন্বয়ে একটি টেকসই মডেল তৈরি করছি, যা একটি গ্রামের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

আয়োজকরা জানান, প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি ও সম্পদের মূল্য বৃদ্ধির কারণে চলতি জুলাই থেকে প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠার মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই এই মূল্যবৃদ্ধি অংশীদারদের আস্থার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী এসময় জোবায়ের ইসলাম ও মো. তাসদীখ হাবীব-এর লেখা ‘এগ্রো ট্যুরিজম গ্রামই গন্তব্য’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, শরিয়াহভিত্তিক মুশারাকা পদ্ধতিতে পরিচালিত এই প্রকল্পে অংশীদাররা সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে জমিসহ খামার ও রিসোর্টের আইনি মালিকানা পাচ্ছেন, যা দেশের এগ্রো ট্যুরিজম খাতে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

বগুড়ার কাহালু উপজেলার বাগইল গ্রামে ৩০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা প্রকল্পটি ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি দর্শনার্থীকে আকৃষ্ট করেছে। স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও নারীর ক্ষমতায়নেও ভূমিকা রাখছে সুখের খামার। ভবিষ্যতে এখানে আন্তর্জাতিক মানের ১০০ কক্ষবিশিষ্ট এগ্রো রিসোর্ট, জামে মসজিদ ও হাফিজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

Logo