চট্টগ্রামে বন্যায় ১৫ হাজার ৯১১ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত, ভেসে গেছে ৯১ কোটি টাকার মাছ
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ চলছে। জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকাশিত হিসাবটি প্রাথমিক, চূড়ান্ত নয়।
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৭
ছবি: সংগৃহীত
টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামে কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে জেলার ১৫ হাজার ৯১১ দশমিক ১৬ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে ১৫৩টি ইউনিয়নের ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর, দিঘি ও মৎস্য খামারের মাছ ভেসে যাওয়ায় প্রায় ৯১ কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। শনিবার (১১ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, অনেক এলাকায় এখনও পানি জমে থাকায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি। পানি নেমে যাওয়ার পর মাঠপর্যায়ে জরিপ শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়। সেখানে ২ হাজার ৫০০টি পুকুর, ৩১০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ভেসে গিয়ে প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সাতকানিয়ায় প্রায় ১০ কোটি ৭৬ লাখ, লোহাগাড়ায় ৮ কোটি ৪৮ লাখ, কর্ণফুলীতে ৬ কোটি ৮ লাখ, চন্দনাইশে প্রায় ৫ কোটি ৯৪ লাখ, বোয়ালখালীতে ৪ কোটি ৫১ লাখ এবং পটিয়ায় প্রায় ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব পাওয়া গেছে। অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার মধ্যে রয়েছে ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ, মিরসরাই, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও সীতাকুণ্ড।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, এবারের বন্যায় বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মৎস্য খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় এখনও পানি না নামায় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে আবাদ হওয়া ৩০ হাজার ২২ দশমিক ৫ হেক্টর আউশ ধানের মধ্যে ৯ হাজার ৪৩ দশমিক ৫ হেক্টর, ২ হাজার ৭২১ দশমিক ৬৭ হেক্টর আমন বীজতলার মধ্যে ৯৬০ দশমিক ৬৬ হেক্টর এবং ১৭ হাজার ৮২৮ দশমিক ৬৫ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে ৫ হাজার ৯০৭ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯১১ দশমিক ১৬ হেক্টরে।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে ফসলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালীতে, যেখানে ৩ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি, সাতকানিয়া, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, পটিয়া, লোহাগাড়া, আনোয়ারা, মিরসরাই, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, কর্ণফুলী, বোয়ালখালী ও হাটহাজারীসহ বিভিন্ন উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কৃষিজমি নষ্ট হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা ও ডবলমুরিং এলাকাতেও ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনও চলমান। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হিসাব প্রাথমিক। সব তথ্য সংগ্রহ শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
প্রাথমিক এই হিসাবই ইঙ্গিত দিচ্ছে, চলমান বন্যা চট্টগ্রামের কৃষি ও মৎস্য খাতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা দিয়েছে। ফসল ও মাছের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে কৃষক ও মাছচাষিদের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
