কৃষকের হাতের নাগালে দুই হাজার ছোট হিমাগার বানাবে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ২০:২৭
জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে বড় হিমাগার করলে তা কৃষকের খেত থেকে ২৫ থেকে ৩০ মাইল দূরে পড়ে। এতে কৃষকের তেমন উপকার হয় না। তাই বর্তমান সরকার আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে দেশে দুই হাজার ছোট হিমাগার তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। এই ছোট হিমাগারগুলো কৃষকের ঘরের কাছে বা মাঠের পাশেই তৈরি হবে।
সোমবার রাজধানীর বনানীতে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
কৃষি খাত নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশের কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের জন্য কৃষি খাতে সরকারি ব্যয়ের পুনর্বিন্যাস’ প্রকাশ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের যৌথ আয়োজক হিসেবে ছিল সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)।
মন্ত্রী আরও জানান, ক্ষুদ্র হিমাগারগুলো চালানোর জন্য ২০ জন কৃষকের সমন্বয়ে একটি করে কমিটি গঠন করা হবে। এই হিমাগারগুলো সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুৎ (সোলার পাওয়ার) দিয়ে চলবে।
সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রজেক্টের পাইলটিং (পরীক্ষামূলক কাজ) এর মধ্যে শেষ হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এই পরীক্ষায় ভালো ফলও এসেছে বলেন তিনি।
সরকার মনে করে, দুই হাজার ক্ষুদ্র হিমাগার তৈরি হলে দেশের প্রায় ৪০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। কৃষকের কোনো পরিবহন খরচ লাগবে না এবং ফসলের কোনো অপচয় হবে না।
দেশের ৭৫ ভাগ মানুষের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কৃষিকে শক্তিশালী করার ওপর তাগিদ দেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জমির স্বল্পতার কারণে চাল বা গম আমদানি করতে হলেও অন্যান্য কৃষিপণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে পেঁয়াজ এবং তিন বছরের মধ্যে আদা ও পেঁয়াজ বীজে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন ও চাহিদার তথ্য মেলানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান মন্ত্রী।
