শেকৃবিতে আন্তর্জাতিক উদ্ভিদ স্বাস্থ্য দিবসের আলোচনা সভা
উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গবেষণা ও বায়োসিকিউরিটিতে জোর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ২৩:৪৯
'স্বাস্থ্যকর উদ্ভিদ, নিরাপদ খাদ্য ও টেকসই ভবিষ্যৎ' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক উদ্ভিদ স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এ আয়োজন করা হয়।
জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবসটি ২০২১ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ মে পালিত হয়ে আসছে। তবে সুবিধাজনক সময় বিবেচনায় এবার শেকৃবিতে দিবসটি ১৩ মে পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উদ্ভিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা শুধু কৃষির বিষয় নয়, এটি খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য ও টেকসই উন্নয়নের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু নোমান ফারুক আহম্মেদ বলেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন, নতুন রোগবালাই ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ের বিস্তারের কারণে উদ্ভিদ স্বাস্থ্য এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. এম. সালাহউদ্দিন এম. চৌধুরী। তিনি বলেন, উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বায়োসিকিউরিটি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সীমান্ত পেরিয়ে আসা ক্ষতিকর পোকামাকড় ও রোগ দ্রুত কৃষি উৎপাদনে হুমকি তৈরি করছে। বিশেষ করে ফল আর্মিওয়ার্মের মতো আগ্রাসী পোকার বিস্তার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। এসব মোকাবিলায় গবেষণা, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ জরুরি।
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর প্রায় ৯৮ শতাংশ অক্সিজেন এবং ৮০ শতাংশ খাদ্য আসে উদ্ভিদ থেকে। অথচ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পোকামাকড় ও রোগের কারণে বিশ্বে উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। এতে প্রতিবছর ২২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়।
অনুষ্ঠানে মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামান। সহকারী বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ক্যাবির ক্রপ হেলথ অ্যাডভাইজার ড. মঞ্জু ঠাকুর। তিনি টেকসই পোকা ব্যবস্থাপনা এবং বায়োকন্ট্রোল প্রযুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই বিকল্প জৈব ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহারে জোর দিতে হবে।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল সোসাইটির ফেলো ড. মো. আব্দুল লতিফ, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন ড. তোফাজ্জল ইসলাম, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. রজ্জব আলী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ এনায়েত-ই-রাব্বি এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–এর সাবেক উপাচার্য ড. আমিন উদ্দিন মৃধা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিমিট বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ওয়েন ডানকান কালভার্ট, ক্যাবি বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. মো. সালেহ আহমেদ এবং এশিয়া-প্যাসিফিক এগ্রিকালচারাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনস এর নির্বাহী পরিচালক ড. রবি ক্ষেত্রপাল।
সভাপতির বক্তব্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মো. বেলাল হোসেন 'ওয়ান হেলথ' ধারণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, উদ্ভিদ, প্রাণী, মানুষ ও পরিবেশ—সবকিছুর স্বাস্থ্য পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। তাই উদ্ভিদ স্বাস্থ্য রক্ষায় গবেষণা, বিনিয়োগ এবং জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যান্ট প্যাথলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাবি বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ফাইটোপ্যাথোলজিক্যাল সোসাইটির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তারা উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ, গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
