জ্বালানি সংকটে কৃষি খাত বিপর্যস্ত: বাড়ছে পরিবহন খরচ, কমছে সরবরাহ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:১৭
ছবি: এআই
এপ্রিল-মে…
বাংলাদেশের
কৃষি খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।এই দুই মাস ঘিরেই কৃষক বোনেন স্বপ্ন, গড়ে ওঠে সারা বছরের আশা। মাঠে এখন পাকা বোরো ধানের সোনালি আভা। বোরো ঘরে তোলার পরই শুরু হবে আউশ, আমন ও পাট মৌসুমের প্রস্তুতি। একই সময়ে বাজারে আসছে তরমুজ, বাঙ্গি, আনারস, লিচু। আর
মে মাসের শেষে যোগ হবে আম, যা
গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে।
তবে
এই প্রাচুর্যের মাঝেই
নেমে এসেছে বড় সংকট। জ্বালানি
তেলের অস্থিরতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো কৃষি ব্যবস্থা। মাঠভরা ফসল থাকলেও কৃষকের মুখে নেই
হাসি। সবচেয়ে বড় সমস্যা—উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছাতে না পারা। তেলের অভাবে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অনেক ফসল মাঠেই পচে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায়—বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ— প্রায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
ক্ষেতে
পড়ে আছে তরমুজ, গাছে পচছে টমেটো। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে উৎপাদন খরচের চেয়েও
কম দামে পণ্য বিক্রি করছেন। বরগুনার
চাষিরা জানিয়েছেন, একরপ্রতি
২ থেকে ৩ লাখ টাকা খরচ করেও পরিবহন
সংকটে তরমুজ বাজারে নিতে পারছেন না। ডিজেলের
অভাবে ট্রাক ও নৌযান
চলাচল সীমিত, ফলে হাজার হাজার
তরমুজ ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে।
একই
অবস্থা সবজি ও ফলের ক্ষেত্রেও। চাঁপাইনবাবগঞ্জে
স্ট্রবেরি, পাবনায় সবজি, পার্বত্য এলাকায় আনারস ও কলা— সবখানেই পরিবহন সংকটে বাজারজাত
বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এদিকে
জ্বালানি সংকটে বেড়েছে পরিবহন ভাড়া। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন রুটে ভাড়া বেড়েছে কয়েক গুণ, যা কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন চাপ
তৈরি করছে। প্রাণিসম্পদ
ও মৎস্য খাতেও এর প্রভাব পড়েছে।
মুরগি, দুধ ও মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বাড়ছে, আর ক্ষতির মুখে পড়ছেন খামারিরা।
বিশেষজ্ঞরা
সতর্ক করে বলছেন, এই সংকট দ্রুত সমাধান
না হলে আগামী
জুন থেকে আগস্টে খাদ্য সরবরাহ
ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। তাদের
মতে, কৃষি খাতে
নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ
নিশ্চিত করা, কৃষিপণ্য পরিবহনে
বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া এবং
সংরক্ষণ অবকাঠামো বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
সরকারও
জানিয়েছে, কৃষকের জন্য ডিজেল ও
বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং
বাজারজাতকরণ সহজ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে
প্রশ্ন একটাই— সময়মতো এসব পদক্ষেপ
বাস্তবায়ন না হলে কৃষকের
এই সংকট কতটা গভীর হবে? কারণ, কৃষক
বাঁচলে দেশ বাঁচবে।আর কৃষি সচল থাকলেই নিরাপদ
থাকবে দেশের খাদ্য ব্যবস্থা।
