চৈত্রে অস্বাভাবিক আবহাওয়া: কুয়াশা, তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টিতে চাপে কৃষি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৪৫
ছবি সংগৃহীত
বাংলাদেশে চলতি
চৈত্র মাসে প্রকৃতি যেন স্বাভাবিক নিয়ম ভেঙে এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। বছরের এই
সময়টিতে সাধারণত তীব্র গরম প্রত্যাশিত হলেও এবার দেখা যাচ্ছে একসঙ্গে তিন ধরনের
আবহাওয়া—ঘন কুয়াশা, তাপপ্রবাহ এবং অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত।
ফলে কৃষি খাতে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
কৃষকদের জন্য
চৈত্র মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এই সময়ে রবিশস্য কাটার শেষ ধাপ এবং খরিপ
মৌসুমের প্রস্তুতি চলে। পাশাপাশি বোরো ধানের বৃদ্ধির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ
পর্যায়। কিন্তু আবহাওয়ার এমন বৈপরীত্যপূর্ণ আচরণ ফসল উৎপাদনে ঝুঁকি তৈরি করছে।
উত্তরাঞ্চলের
কিছু জেলায় ভোরবেলা ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে, যা এ সময়ের জন্য অস্বাভাবিক। মাঠ-ঘাট, গাছপালা এমনকি সড়কও কুয়াশার চাদরে
ঢেকে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাতাসে
আর্দ্রতা বেশি থাকা এবং দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি
তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিরাজ করছে তীব্র গরম। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০
ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠছে। এতে কৃষি শ্রমিকদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং ফসলের উপর
নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে ধানের জন্য অতিরিক্ত তাপমাত্রা ক্ষতিকর হয়ে উঠছে।
এর পাশাপাশি
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্বাভাবিক হারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কোথাও অতিবৃষ্টি আবার
কোথাও তুলনামূলক কম বৃষ্টি—এই অসম বণ্টন
কৃষি ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করছে। হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে বোরো ধান পানিতে
তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
আবহাওয়া
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু
পরিবর্তনের প্রভাবেই এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। একই সময়ে কুয়াশা, তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাত—এই তিনের উপস্থিতি আগে খুব কম দেখা
গেলেও এখন তা ক্রমেই বাড়ছে।
এই পরিস্থিতির
কারণে ফসলের রোগবালাই বৃদ্ধির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আমসহ বিভিন্ন ফসলে
ছত্রাকজনিত রোগ বাড়তে পারে, যা উৎপাদন
কমিয়ে দিতে পারে।
আগামী
মাসগুলোতেও আবহাওয়ার এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তাপপ্রবাহ, বজ্রঝড় এবং
কালবৈশাখীর আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কৃষিতে
নতুন কৌশল গ্রহণ করা জরুরি।
কৃষি
সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো সেচ ও
পানি নিষ্কাশন, সহনশীল জাতের
ফসল নির্বাচন এবং আগাম আবহাওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা গ্রহণ এখন অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
