সবজির দাম স্থিতিশীল রাখতে শীতের আগেই তৈরি হচ্ছে ১০০টি হিমাগার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:৩৮
ছবি সংগৃহীত
শীতকালে সবজির মৌসুমে দেশের কৃষকেরা ফসলের ন্যায্য দাম পান না।
মূলত সংরক্ষণ করতে না পারার কারণেই কয়েক বছর ধরে এমনটা ঘটছে। যেমন সর্বশেষ গত
মৌসুমে উৎপাদন ভালো হলেও প্রতিটি ফুলকপির দাম পাঁচ টাকায় নেমে এসেছিল। এ কারণে
কৃষকদের উৎপাদন খরচও ওঠেনি। এ রকম পরিস্থিতি থেকে কৃষকদের সুরক্ষা দিতে সবজি
সংরক্ষণে ১০০টি মিনি হিমাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে
১২টি হিমাগার নির্মাণ করা হয়েছে।

এই কোল্ড স্টোরেজের রয়েছে দুটি মডেল—একটি
ঘরভিত্তিক (টিএসসিআর), অন্যটি কনটেইনারভিত্তিক
(টিএসসিসি)। উভয় মডেলই সোলার সিস্টেম তথা সৌরবিদ্যুতে চালিত। ফলে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ও
পরিবেশবান্ধব হবে এসব হিমাগার। এগুলোতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের জন্য
রয়েছে বিশেষ সেন্সর, যা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই
পরিচালনা করা যায়। দেশের আবহাওয়া, কৃষকের প্রয়োজন ও
স্বল্প খরচের বাস্তবতা মাথায় রেখে তৈরি করা এই হিমাগারে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সবজি
ও ফল তাজা রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।
কৃষি কর্তকর্তারা জানান, একটি ঘরভিত্তিক কোল্ড স্টোরেজে ১০ টন পণ্য রাখা যায় এবং খরচ পড়ে প্রায়
৫ লাখ টাকা। কনটেইনার মডেলের হিমাগার নির্মাণে খরচ পড়ে ১৫ লাখ টাকা, যা প্রচলিত কোল্ড স্টোরেজের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ কম। আর কৃষকেরা
নিজেরাই এসব হিমাগারের দায়িত্বে থাকবেন। কৃষিনির্ভর ৪২টি জেলায় প্রাথমিকভাবে এই
হিমাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব হিমাগারে ৮-১০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সবজি সংরক্ষণ করা
যাবে।
সভায় কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘শীত মৌসুমে দেশে প্রচুর সবজি উৎপন্ন হয়।
সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় সবজি পচে যায়। এতে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। মিনি
কোল্ড স্টোরেজ কৃষকের ক্ষতি কমাবে। মানিকগঞ্জে গাজরসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি বেশি
উৎপাদন হয়। এ ব্যবস্থায় কৃষক ও ভোক্তা সরাসরি উপকৃত হবেন। মিনি কোল্ড স্টোরেজের
সংখ্যা পর আরও বাড়ানো হবে। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে শীতের আগেই এসব হিমাগার
নির্মাণ করা হবে। প্রয়োজনে কৃষকেরা নিজেরাও বাড়িতে অল্প খরচে এসব তৈরি করতে
পারবেন। আমরা কৃষকদের কারিগরি সহায়তা দেব।’
